Tuesday, January 24, 2017

বাংলা ভাষার ইতিহাস


#বাংলা_ভাষার_ইতিবৃত্ত :-
বাংলা ভাষা পৃথিবীর জীবন্ত ও বয়স্ক ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। সময়ের তালে তালে এ ভাষার রূপে ও উচ্চারণে আসে ভিন্নতা। ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে 'গৌড়ী প্রাকৃত' থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন ৯০০ বা ৯৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ''মাগধী অপভ্রংশ" থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার (এই মতই আজকাল গৃহীত)।
"৯৫০-১২০০ সাল" - এই আড়াই শো বছরে বাংলা ভাষা যে-রূপ নিয়েছিল, তাকে বলা হয় আদি বাংলা ভাষা। আর "চর্যাপদ" নামে একগুচ্ছ গান পাওয়া যায়, যা আদিযুগের বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছিল। নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থশালা থেকে ১৯০৭ সালে ৪টি চর্যাপদের পুথি আবিস্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এবং "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা" নামে ১৯১৬ সালে "বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ" থেকে প্রকাশ করেন।চর্যাপদের কবি ৮ জনের নাম পাওয়া যায় কাহ্নপা, লুইপা, কুক্কুরীপা,বিরুআপা, গুডরীপা, ভুসুকুপা, সরহপা, শবরপা প্রভৃতি। সবচেয়ে বেশি গান কাহ্নপা(১৩),ভুসুকুপ ৮টি গান।
১২০০-১৮০০ খ্রি: পর্যন্ত- এই সময়ের কথিত ও লিখত যে রূপ পাওয়া যায় তা হলো বাংলা ভাষার মধ্য যুগ।
১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দের বাংলা ভাষাকে বলা হয় আঁধার যুগের বা ক্রান্তিকালের বাংলা ভাষা। ১৮০০ থেকে শুরু হয় আধুনিক বাংলা ভাষা।
*১ম অভিধান + আংশিক ব্যাকরণ "ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেঙ্গল্লা, ই পর্তুগিজ " (১৭৪৩ সাল)-পাদ্রি আসসুম্পসাঁউর।
*১ম ব্যাকরণ "এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ" (১৭৭৮ সাল) -ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
সাধু ও চলিত: সাধু ভাষাকে বিদায় জানাতে সর্বপ্রথম ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী চলিত রীতিকে প্রতিষ্ঠার জন্য আলোড়ন আনে বাংলা ভাষারাজ্যে এবং তাঁর সাথে যোগদান করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এগিয়ে আসেন অন্যরা। ধীরে ধীরে বিদায় নিতে থাকে সাধু রীতি।
#প্রমিত উচ্চারণের ইতিবৃত্ত :-
সাধারণত মনে করা হয় যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সময় প্রবৃত্ত হন প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম কানুন সংকলনে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে কোন কোন অভিধানে বিদেশীদের কথা মনে রেখে উচ্চারণ নির্দেশ করা হয় তবে তা রবীন্দ্রনাথের পরে।ঢাকা থেকে ১৯৬৮ সালে একটি সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ অভিধানের চেষ্টা করা হয়।
১৯৬৮ সাল থেকে নরেন বিশ্বাস বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে "বাংলা উচ্চারণ" সম্পর্কে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলা উচ্চারণ অভিধানের তীব্র অভাব অনুভব করেন। তাঁর এই তীব্র অনুভূতি থেকেই রচিত হয়েছে "পূর্ণাঙ্গ বাংলা উচ্চারণ অভিধান" যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমী থেকে।
বি: দ্র: সংস্কৃতির যে কোন শাখা বা মাধ্যমে সফল ভাবে কাজ করতে চাইলে একজন শিল্পীকে প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম নীতি জেনে বাচিক শিল্পে পারদর্শী হতে হবে।

শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(১ম ক্লাস)
#বাংলা_ভাষার_ইতিবৃত্ত :-
বাংলা ভাষা পৃথিবীর জীবন্ত ও বয়স্ক ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। সময়ের তালে তালে এ ভাষার রূপে ও উচ্চারণে আসে ভিন্নতা। ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে 'গৌড়ী প্রাকৃত' থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন ৯০০ বা ৯৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ''মাগধী অপভ্রংশ" থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার (এই মতই আজকাল গৃহীত)।
"৯৫০-১২০০ সাল" - এই আড়াই শো বছরে বাংলা ভাষা যে-রূপ নিয়েছিল, তাকে বলা হয় আদি বাংলা ভাষা। আর "চর্যাপদ" নামে একগুচ্ছ গান পাওয়া যায়, যা আদিযুগের বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছিল। নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থশালা থেকে ১৯০৭ সালে ৪টি চর্যাপদের পুথি আবিস্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এবং "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা" নামে ১৯১৬ সালে "বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ" থেকে প্রকাশ করেন।চর্যাপদের কবি ৮ জনের নাম পাওয়া যায় কাহ্নপা, লুইপা, কুক্কুরীপা,বিরুআপা, গুডরীপা, ভুসুকুপা, সরহপা, শবরপা প্রভৃতি। সবচেয়ে বেশি গান কাহ্নপা(১৩),ভুসুকুপ ৮টি গান।
১২০০-১৮০০ খ্রি: পর্যন্ত- এই সময়ের কথিত ও লিখত যে রূপ পাওয়া যায় তা হলো বাংলা ভাষার মধ্য যুগ।
১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দের বাংলা ভাষাকে বলা হয় আঁধার যুগের বা ক্রান্তিকালের বাংলা ভাষা। ১৮০০ থেকে শুরু হয় আধুনিক বাংলা ভাষা।
*১ম অভিধান + আংশিক ব্যাকরণ "ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেঙ্গল্লা, ই পর্তুগিজ " (১৭৪৩ সাল)-পাদ্রি আসসুম্পসাঁউর।
*১ম ব্যাকরণ "এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ" (১৭৭৮ সাল) -ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
সাধু ও চলিত: সাধু ভাষাকে বিদায় জানাতে সর্বপ্রথম ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী চলিত রীতিকে প্রতিষ্ঠার জন্য আলোড়ন আনে বাংলা ভাষারাজ্যে এবং তাঁর সাথে যোগদান করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এগিয়ে আসেন অন্যরা। ধীরে ধীরে বিদায় নিতে থাকে সাধু রীতি।
#প্রমিত উচ্চারণের ইতিবৃত্ত :-
সাধারণত মনে করা হয় যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সময় প্রবৃত্ত হন প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম কানুন সংকলনে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে কোন কোন অভিধানে বিদেশীদের কথা মনে রেখে উচ্চারণ নির্দেশ করা হয় তবে তা রবীন্দ্রনাথের পরে।ঢাকা থেকে ১৯৬৮ সালে একটি সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ অভিধানের চেষ্টা করা হয়।
১৯৬৮ সাল থেকে নরেন বিশ্বাস বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে "বাংলা উচ্চারণ" সম্পর্কে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলা উচ্চারণ অভিধানের তীব্র অভাব অনুভব করেন। তাঁর এই তীব্র অনুভূতি থেকেই রচিত হয়েছে "পূর্ণাঙ্গ বাংলা উচ্চারণ অভিধান" যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমী থেকে।
বি: দ্র: সংস্কৃতির যে কোন শাখা বা মাধ্যমে সফল ভাবে কাজ করতে চাইলে একজন শিল্পীকে প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম নীতি জেনে বাচিক শিল্পে পারদর্শী হতে হবে।
বাংলা ভাষায় স্বরবর্ণ ১১ টি, কিন্তু পাঠ প্রতিকল্পন অনুসারে স্বরবর্ণ হলো ৭ টি :- অ, আ. ই, উ, এ, ও, এ্যা
পাঠ প্রতিকল্পন :- কোন নির্দিষ্ট ভাষার শব্দের মাঝে স্বরধ্বনি পরিবর্তন করে যে সঠিক স্বরধ্বনি নির্ধারন করা হয় তাকে পাঠ প্রতিকল্পন বল।
যেমন:- আমি, ইমা।
স্বরবর্ণ উচ্চারণে জিহ্বা, ঠোঁট ও মুখ বিহ্বরের কাজ:-
 জিহ্বার অবস্থান অনুসারে...
ই, এ, এ্যা = সম্মুখ ধ্বনি
আ, অ, ও, উ = পশ্চাৎ ধ্বনি
 সংকোচন ও প্রসারণ অনুসারে...
ই, এ, এ্যা = প্রসারিত কম বেশি
আ, অ, ও, উ = সংকচিত
 মুখ বিহ্বরের ভূমিকা বা কাজ,
ই, উ = মুখ বোজা
আ = সম্পুর্ণ খোলা
এ, ও = অর্ধেক বন্ধ
এ্যা, অ = অর্ধেক খোলা।

শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(২য় ক্লাস)
#ব্যঞ্জনবর্ণ :-
ক খ গ ঘ ঙ
চ ছ জ ঝ ঞ
ট ঠ ড ঢ ণ
ত থ দ ধ ন
প ফ ব ভ ম
য র ল শ ষ
স হ ড় ঢ় য়
ৎ ং ঃ ঁ
ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথম ২৫ টি বর্ণ অর্থাৎ ক থেকে ম পর্যন্ত বর্ণগুলোকে পাঁচটি দলে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি
দলের নামকরণ করা হয়েছে তাদের দলপতির নাম অনুযায়ী। যেমন ক খ গ ঘ ঙ এই পাঁচটি বর্ণ নিয়ে যে দলটি তৈরি হয়েছে তাকে বলা হয় ক-বর্গ, এমনি ভাবে চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ, প-বর্গ।
অল্পপ্রাণ : ক,চ,ট,ত,প.
গ,জ,ড,দ,ব.
মহাপ্রাণ : খ,ছ,ঠ,থ,ফ.
ঘ,ঝ,ঢ,ধ,ভ.
নাসিক্য : ঙ,ঞ,ণ,ন,ম.
শীষ ধ্বনি : শ,ষ,স.
চলবে..

"জড়তা কাটাতে সহায়ক কতিপয় সূত্র" - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৩য় ক্লাস)
"জড়তা কাটাতে সহায়ক কতিপয় সূত্র"
১. পাশাপাশি এবং উপর নিচ পড়ুন -
ক চ ট ত প
খ ছ ঠ থ ফ
গ জ ড দ ব
ঘ ঝ ঢ ধ ভ
২. অ আ ই উ এ ও এ্যা
এ্যা ও এ উ ই আ অ
৩. খ আর ঘ জোর দিয়ে বলুন-
খক্ খক্ খ্যাক্ খ্যাক্, ঘন্ ঘন্ ঘ্যান্ ঘ্যান্,
খুক্ খুক্ খল্ খল্ , ঘুট্ ঘুট্ ঘ্যাট্ ঘ্যাট্।
চ, ছ, জ, ঝ জোর দিয়ে বলুন-
চি চি ছ্যা ছ্যা, ঝি ঝি ঝ্যা ঝ্যা,
গজা গজ্ গজা গজ্, খচা খচ্ খচা খচ্,
ঝর্ ঝর্ জম্ জম্, চুক্ চুক জ্যাব্ জ্যাব্।
ট আর ঠ জোর দিয়ে বলুন-
টা টা ঠা ঠা, টি টি ঠি ঠি,
টিপি টাপ্ টিপি টাপ্, ঠিক্ ঠিক্ ঠক্ ঠক্,
টে টে টো টো, ঠিক্ ঠিক্ ঠস্ ঠস্।
ড আর ঢ জোর দিয়ে বলুন-
ডম্ ডম্ ডিম্ ডিম্, ঢক্ ঢক্ ঢাম্ ঢাম্
ডুম্ ডুম্ ডুম্ ডুম্, ঢক্ ঢক্ ঢম্ ঢম্
থ আর ধ জোর দিয়ে বলুন-
থক্ থক্ থক্ থক্, ধুম্ ধুম্ ধম্ ধম্
থির্ থির্ থর্ থর্, ধমা ধুম্ ধমা ধাম্
স্পষ্ট করে ফ আর ভ বলুন-
ফিক্ ফিক্ ফক্ ফক্, ভম্ ভম্ ভট্ ভট্
ফুট্ ফাট্ ফিট্ ফাট্, ভুট্ ভুট্ ভক্ ভক্
৪. পাখী পাঁকা পেঁপে খায়
৫. কাঁচা গাব পাঁকা গাব
৬. তক্ তক্, থক্ থক্, তালপাতা চক্ চক্
৭. তৈতৈ থৈথৈ, থালা ভরা আছে কৈ
৮. জলে চুন তাজা, তেলে চুল তাজা।
৯. চাচা চাঁছা চটা চাঁছে না আচাঁছা চটা চাঁছে।
১০. গড়ের মাঠে গরুর গাড়ি গড়গড়িয়ে যায়।
১১. চক বাজারের চানু চাকলাদার চিড়া চিবাইতে চিবাইতে চাঁনখারপুল পার হইয়া চাঁদপুরের লঞ্চে চড়িল।
১২. ছদরুদ্দিনের ছাগল ছানা ছোলা খাইতে গিয়া ছদরুদ্দিনের ছাতা ভাঙিয়া ছয়লাব করিয়া ছলছল নয়নে চাহিয়া রহিল।
১৩. কমলাকান্তের কনিষ্ঠ কন্যা কামিনী কলেজের করিডোরে কাঁদিতে কাঁদিতে কপাল কুঞ্চিত করিয়া কাকাকে কহিল, 'কাকা,কাক কা-কা করে কেন'? কাকা কহিলেন, 'কন্যা), কপাল কুঞ্চিত করিও না' কা-কা করাই কাকের কাজ।
১৪. সুশিক্ষিত সুসজ্জিত সুশৃঙ্খল সৈন্যসহ সেনাপতি সেলুকস্ বিশৃঙ্খল শত্রু সৈন্যদের সম্পূর্ণরুপে পরাস্ত করে সসম্মান স্বসাম্রাজ্যে সশরীরে ফিরে এলেন।
১৫. ফেলু মিয়া ফাঁপা ফাটা বাঁশ দিয়া ফুলের ফ্ল্যাগ উড়াইয়া ফটো তুলিল।
চলবে...

আদ্য "অ" এর উচ্চারণ রীতি:- - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৪র্থ ক্লাস)
আদ্য "অ" এর উচ্চারণ রীতি:-
১. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন বা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "ই/ঈ-কার" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" করতে হয়। যেমন: অভিধান> ওভিধান, অতি> ওতি, পতি> পোতি,এমনি ভাবে মতি,গতি, নদী, সতী, গভীর ইত্যাদি।
২. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন কিংবা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "উ/ঊ-কার" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" করতে হয়। যেমন: অনুমান> ওনুমান, অনুকূল> ওনুকূল, এমনি ভাবে গরু, মরু, তরু, বধূ, ময়ূর ইত্যাদি।
৩. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন বা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "য-ফলা" যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়ে থাকে। যেমন: অদ্য বেলা> ওদ্য বেলা, অতান্ত> ওতান্ত, এমনি ভাবে অত্যাচার, কন্যা, বন্যা, কথ্য, তথ্য, সন্ধ্যা, গদ্য, পদ্য সদ্য, ধন্যবাদ ইত্যাদি।
৪. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন বা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "ক্ষ/জ+ঞ=জ্ঞ" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়ে থাকে। যেমন: কক্ষ> কোক্ষ, বক্ষ> বোক্ষ এমনি ভাবে দক্ষ পক্ষ, লক্ষ, যজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
বি: দ্র: নামের ক্ষেত্রে লোক্ষণ হবেনা তখন লক্ষণ বলতে হবে। আবার পাখির পালকের ক্ষেত্রে পোক্ষ হবে না বরং পক্ষ বলতে হবে।
৫. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন কিংবা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "ঋ-কার" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কার" এর মতো হয়। যেমন: মসৃণ> মোসৃণ, যকৃত,
৬. শব্দের আদিতে যদি ''অ যুক্ত র- ফলা" থাকে তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ সাধারণত "ও-কারান্ত" করতে হয়। যেমন: গ্রহ> গ্রোহ, এমনি ভাবে গ্রন্থ, প্রতাপ, প্রকাশ, প্রথম, প্রকৃতি, প্রত্যয় ইত্যাদি।
বি: দ্র: "অ যুক্ত র- ফলা" এরপরে "য়" হলে তার উচ্চারণ অবিকৃত হয়ে থাকে। যেমন: ক্রয়।

(আদ্য "অ" এর বাকি আংশ) শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৫ম ক্লাস)
(আদ্য "অ" এর বাকি আংশ)
৭. সাধু ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াপদের বানানে ''ই-কার'' আছে কিন্তু চলিত ভাষায় তা হ্রাস পায় এবং সেই "ই-কার" প্রায়শয় "ও-কার" এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমন: করিবার(সাধু)> করবার(চলিত)> কোরবার(উচ্চারণ) এমনি ভাবে ধরবার, নড়বার, পড়বার ইত্যাদি।
বি:দ্র: হইবো> হবো, সইবো> সবো।
"অ" এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে:-
৮. "অ" যখন নেতিবাচক (না) বাচক অর্থে আসে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "অ" হবে। যেমন: অস্থির, অবিরাম, অবিকল, অনড়, অন্যায়, অবিচার, অসময়, অমূল্য, অপ্রাপ্ত ইত্যাদি।
৯. শব্দের প্রথমে যদি "স" থাকে আর তা যদি "সম" অর্থে আসে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "অ" হবে। যেমন: সম্পৃক্ত, সম্প্রীত, সম্পদ, সহোদর, সমান, সমাজ, সঞ্জয়, সমুদয়, সজ্ঞান, সম্পাদক ইত্যাদি।
১০. অ এর অ হলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "অ" হবে। যেমন: সকল, সফল, সদল, বলা ইত্যাদি।
১১. একাক্ষরে যখন উচ্চারিত হয় তখন "অ" টা "অ" এর মতোই উচ্চারিত হয়। যেমন: ফল, দল, বল, নল ইত্যাদি।

মধ্য "অ"এর উচ্চারণ রীতি - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!

x
(৬ষ্ঠ ক্লাস)
মধ্য "অ"এর উচ্চারণ রীতি
১. শব্দের মধ্যে যদি "অ" থাকে তারপর যদি "ই,ঈ,উ,ঊ,ঋ,ক্ষ,জ্+ঞ,এবং য-ফলা" যুক্ত ব্যঞ্জণবর্ণ থাকে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়।
যেমন: প্রণতি>প্রণোতি, এমনি ভাবে বিরতি, অগনিত, সমভূমি,তৃণভূমি, অমসৃণ, অকথ্য,ধরণী, সুমতি, অবগতি, যবক্ষার, অদম্য, অসভ্য ইত্যাদি।
২. শব্দের মধ্যে যদি "অ" থাকে, তারপর "অ,আ,এ,ও-কার" থাকে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত হবে। যেমন: বলদ>বলোদ, মতন>মতোন এমনি ভাবে বেতন, ছাগল, পাগল, কাগজ, ডাগর, লোচন, পোষণ, ছোবল, সবল, ইত্যাদি।
কবি নজরুল ইসলামের
১. রাজবন্দীর জবানবন্দী
চলবে......

অন্ত্য "অ" এর উচ্চারণ রীতি - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৭ম ক্লাস)
অন্ত্য "অ" এর উচ্চারণ রীতি
১.১১-১৮ সংখ্যায় "অ" এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত হবে। যেমন: এগার >এগারো, বার> বারো, এমনি ভাবে তেরো, চোদ্দ, পনেরো ইত্যাদি।
২. "ত", "ইত" এবং "আন" প্রত্যয়যোগে গঠিত বিশেষণ শব্দের "অন্ত্য-অ" উচ্চারণে ও-কারান্ত হয়। যেমন: কত>কতো, মত>মতো, গত, নত, রত, পঠিত, চলিত, প্রমিত, রক্ষিত, বঞ্চিত, পরীক্ষিত, করান, বলান, পড়ান, পাঠান, চালান ইত্যাদি।
৩. বিশেষরূপে ব্যবহৃত পদের "অন্ত্য-অ" লুপ্ত না হয়ে "ও-কারান্ত" হয়। যেমন: কাল>কালো, ভাল>ভালো এমনি ভাবে খাট, মন্দ, অন্ধ, বন্ধ, বড় ইত্যাদি।
৪.দ্বিরুক্ত শব্দ বিশেষণরূপে ব্যবহৃত হলে "অন্ত-অ" এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়। যেমন: কাঁদ-কাঁদ> কাঁদো-কাঁদো, ছল-ছল, ঝর-ঝর, সাজ-সাজ, বাধ-বাধ ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম : কর-কর, তর-তর, মর-মর, খর-খর।
৫. "তর, তম" যুক্ত "অন্ত-অ" এর উচ্চারণ ও-কারান্ত হয়। যেমন: উচ্চতর> উচ্চতরো, ভিন্নতর, গুরুতর, বৃহত্তর, বৃহত্তম, সর্বোত্তম, উচ্চতম, নিম্নতম, ইত্যাদি।
৬. বিশেষ্য শব্দের শেষে "হ" এবং বিশেষণ শব্দের শেষে "ঢ়" থাকলে সাধারণত অন্তিম-অ "ও-কারান্ত" হয়। যেমন: বিবাহ> বিবাহো, কলহ, বিরহ, দেহ, মোহ, স্নেহ, গূঢ়> গূঢ়ো(গূrho), গাঢ়, মূঢ়, দৃঢ়, ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম : আশাঢ় (আশাঢ়্)
৭. "-ইব ,-ইল, -ইতেছি, - ইয়াছি, -ইতেছিল" ইত্যাদি প্রত্যয়যোগে গঠিত ক্রিয়াপদের "অন্তিম-অ" এর উচ্চারণ "ঐ 'অ' ও-কারের মতো শুনায়। যেমন: করিব> কোরবো, বলিব> বোলবো, করিতেছ > কোরছো, বসিয়াছিল> বোসেছিল,চলিতেছে> চোলছে ইত্যাদি।
৮. শব্দের শেষে "অ" তারপূর্বে যদি "ঋ,এ,ঐ,ঔ,ং,ঃ" থাকে তাহলে সেই অ-এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হবে। যেমন: তৃণ> তৃণো, বৃষ> বৃষো, তৈল> তোইলো, শৈল, জৈন, দৈব, বৈধ, গৌন> গোউনো, মৌন, সৌর, বংশ> বঙশ, হংস, দুঃখ> দুকখো ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম : দৌড়> দোউড়্, পৌষ, শৌচ।

শিশ-ধ্বনির(শ,স,ষ) উচ্চারণ রীতি - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৮ম ক্লাস)
#শিশ-ধ্বনির(শ,স,ষ) উচ্চারণ রীতি
শ,স যদি স্বাধীন ভাবে থাকে তাহলে ইংরেজী "sh"এর মত উচ্চারণ হবে। যেমন: শক্তি, সঞ্জীবনী, সঞ্চয়, সমস্যা, সমস্ত, সম্মান, সংবাদ ইত্যাদি।
আর যদি কোন বর্ণের সাথে যুক্ত হয় তাহলে ইংরেজী "s"এর মত উচ্চারণ হয়। যেমন : শ্রদ্ধা, স্রষ্টা, মস্তক, ব্যস্ত, গ্রস্ত, স্থান ব্যবস্থা, স্নান, স্নেহ, প্রশ্ন, স্নিগ্ধ, সৃষ্টি ইত্যাদি।
"ষ" সব সময় ইংরেজী "sh"এর মতো উচ্চারণ হয়। যেমন: ষাঁড়, বৃষ্টি, আষাঢ়, কষ্ট, কাষ্ঠ ইত্যাদি।

এ এবং এ্যা এর ব্যবহার - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৯ম ক্লাস)
এ এবং এ্যা এর ব্যবহার
১. শব্দের প্রথমে যদি এ-কার (স্বাধীন বা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এরপর "ই,ঈ,উ,ঊ,এ,ও-কার, য়,র,ল,শ,হ" থাকে তাহলে "এ" উচ্চারণে অবিকৃত থাকে। যেমন: এনে, একি, দেখি, ঢেকি, শেষে, খেয়া, কেয়া, হেথা, যেথা, বেশি, বেগুন, এলো, গেলো, বে ওয়ারিশ, একুশে, দেশ, মেয়ে ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম : এক> এ্যাক, এগারো, একশ, সেওড়াপাড়া, দেওড়া, ইত্যাদি।
২. শব্দের আদ্য "এ-কার" এরপর যদি "ং,ঙ" থাকে তারপর যদি "ই,ঈ,উ,ঊ" না হয় তাহলে "এ টা এ্যা" হয়। যেমন: ভেংচা> ভ্যাংচা, লেংটা, লেংড়া, ব্যাঙ ইত্যাদি।
৩. এ-কার যুক্ত একাক্ষরে "আ-প্রত্যয়" যুক্ত হলে "এ্যা" উচ্চারণ হয়। যেমন: দেখা> দ্যাখা, এমনি ভাবে ক্ষেপা, ঠেলা, খেলা, তেলা, বেচা ইত্যাদি।
৪. একাক্ষরে সর্বনাম পদ সাধারণত অবিকৃত থাকে। যেমন: সে,কে,যে, এ ইত্যাদি।

ম-ফলার উচ্চারণ বিধি - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(১০ম ক্লাস)
ম-ফলার উচ্চারণ বিধি
১. শব্দের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ম-ফলা যুক্ত হলে সাধারণত তার উচ্চারণ হয়না কিন্ত প্রমিত উচ্চারণে ম-ফলা সংযুক্ত বর্ণটি সামান্য নাসিক্য হয়। যেমন: স্মরণ( শঁরণ), স্মারক, স্মৃতি, শ্মশান ইত্যাদি।
২. শব্দের মধ্যে বা অন্তে "ম-ফলা" সংযুক্ত বর্ণটি দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় তবে "ম" যেহেতু অনু নাসিক্য ধ্বনি তাই দ্বিত্ব উচ্চারণ শেষ ধ্বনিটা সামান্য নাসিক্য হয়। যেমন: ছদ্ম(ছদদোঁ), পদ্ম(পদদোঁ), পদ্মা, আত্ম, আত্মীয়, মহাত্মা, বিস্ময়, বিস্মিত, ভস্ম,রশ্মি, কস্মিনকাল, ইত্যাদি।
৩. বাংলা ভাষায় পদের মধ্যে কিংবা শেষে সর্বত্র ম-ফলা যুক্ত বর্ণটি দ্বিত্ব হয়না।
"গ,ঙ,ট,ণ,ন,ল,ম" এর সাথে সংযুক্ত "ম" উচ্চারণে অবিকৃত থাকে। যেমন:
গ+ম-ফলা : যুগ্ম (যুগ্+ম), বাগ্মী
ঙ+ম-ফলা : বাঙ্ময়(বাঙময়),বাঙমুখ, বাঙ্ময়ী
ট+ম-ফলা : কুট্মল(কুটমল),
ণ+ম-ফলা : ষাণ্মাসিক, হীরণ্ময়, মৃণ্ময়
ন+ম-ফলা : জন্ম,উন্মাদ, চিন্ময়
ম+ম-ফলা : সম্মান,সম্মতি
ল+ম-ফলা :গুল্ম(গুলমো),বাল্মীকি, ইত্যাদি।
*** কতিপয় সংস্কৃত শব্দের বানান উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: কুষ্মাণ্ড(কুশমানডো), সুস্মিত(শুসমিতো), সুস্মিতা, স্মিতহাস্য, কাশ্মীর, আয়ুষ্মতী ইত্যাদি।
*** জন্ম( জ, ন এ ম-ফলা)
বি দ্র: ফলা বর্ণ ৮টি। যথা: ন,ণ,ব,ব,র,ল,ম,য।

র-ফলার উচ্চারণ বিধি - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(১১ তম ক্লাস)
র-ফলার উচ্চারণ বিধি
১. শব্দের বা পদের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে "র-ফলা" যুক্ত হলে, তার উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়। যেমন: প্রকাশ> প্রোকাশ এমনি ভাবে প্রতাপ, প্রবাস, প্রমাণ, প্রজ্ঞা, গ্রন্থ, প্রাজ্ঞ ইত্যাদি।
২. র-ফলা যদি শব্দের মধ্যে বা অন্তে ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে হলে, ব্যঞ্জনবর্ণটিকে দ্বিত্ব করে এবং "র-ফলার" উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: রাত্রি> রাত্+ত্+রি, এমনি ভাবে যাত্রী, ছাত্রী, পাত্রী, মাত্র, ছাত্র, তীব্র, বিদ্রোহ, বিদ্রোহী ইত্যাদি।
৩. সংযুক্ত বর্ণে "র-ফলা" হলে তার উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: যন্ত্র> যন্ত্+্র, অস্ত্র> অস্ত্+্র, বস্ত্র ইত্যাদি।

য-ফলার উচ্চারণ রীতি (শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!)


(১২ তম ক্লাস)
য-ফলার উচ্চারণ রীতি 
১. শব্দের প্রথমে য-ফলা যুক্ত হলে, বর্ণটি উচ্চারণে শাসাঘাত পড়ে এবং বর্ণটি "অ বা ও-কারান্ত" হলে প্রায়শয় এর উচ্চারণ এ্যা হয়। যেমন: ব্যক্ত> ব্যাক্ত এমনি ভাবে ব্যবসা,ব্যবস্থা,ব্যাহত, ব্যাকরণ,ব্যাসার্ধ, ব্যর্থ, ত্যক্ত, ন্যায়, ন্যায্য, খ্যাতি ইত্যাদি।
কিন্তু "য-ফলার" পরে যদি "ই,ঈ-কার" হয় তবে সে ক্ষেত্রে তার উচ্চারণ "এ্যা" না হয়ে "এ" হবে। যেমন: ব্যক্তিত্ব, ব্যতিহার, ব্যতিরেক, ব্যতিব্যস্ত, ব্যতিক্রম, ব্যতিব্যস্ত, ত্যজিয়া ইত্যাদি।
২. পদের মধ্যে বা অন্ত "য-ফলা" যুক্ত হলে, সে বর্ণেকে দ্বিত্ব করে দেয়। সে বর্ণটি অল্প প্রাণ হলে ১ম বার হসন্ত ওন২য় বার "ও-কারান্ত" হয়। যেমন: অদ্য> অদদো, শূণ্য, কন্যা, বন্যা, শস্য, পণ্য ইত্যাদি।
আর সে বর্ণটি মহা প্রাণ হলে ১ম বর্ণটি অল্প প্রাণ হসন্ত ও ২য় বর্ণটি মহা প্রাণ ও-কারান্ত হয়। যেমন: সভ্য> সবভো, সাধ্য, বধ্য, বাধ্য, কথ্য, পথ্য ধন্য, ধন্যবাদ ইত্যাদি।
৩.শব্দের মধ্যে বা অন্তে সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে "য-ফলা" যুক্ত হলেতার উচ্চারণ হয়। যেমন: সন্ধ্যা, স্বাস্থ্য, সত্যজিৎ, ইত্যাদি।

ব-ফলার উচ্চারণ রীতি

শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!
(১৩ তম ক্লাস)
ব-ফলার উচ্চারণ রীতি
১. পদের প্রথমে "ব-ফলা" হলে সাধারণত তার উচ্চারণ হয়না (তবে বর্ণটি উচ্চারণে সামান্য শ্বাসাঘাত পড়ে থাকে)। যেমন: স্বর(শর), স্বদেশ, স্বামী, স্বাগতম, স্বাদ, স্বাগতিক, ধ্বনি, ত্বক, জ্বালা,জ্বালানি ইত্যাদি।
২. পদের মধ্যে বা অন্তে হলে সংযুক্ত বর্ণের উচ্চারণ দ্বিত্ব হয়। যেমন: দ্বিত্ব ( দিত্+ তো), বিশ্ব, বিশ্বাস, বিদ্বান, বিদ্বান, দাসত্ব, রাজত্ব, বিধ্বস্ত, প্রজ্বলিত, আশ্বিন ইত্যাদি।
৩. "উদ" উপসর্গযোগে গঠিত পদে "ব-ফলার" উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন : উদ্বেগ(উদ্+বেগ), উদ্বোধন, উদ্বমন, উদ্বর্তন, উদ্বিগ্ন, উদ্বেলিত, উদ্বিড়াল, উদ্বৃত্ত ইত্যাদি।
৪. বাংলা শব্দে ''ক থেকে সন্ধি সূত্রে আগত গ " এর সঙ্গে "ব-ফলা" যুক্ত হলে তার উচ্চারণ প্রায়শই অবিকৃত থাকে। যেমন: দিগ্বিজয়(দিগবিজয়), দিগ্বিদিক, দিগ্বসনা, দিগ্বলয়, দিগ্বালিকা, ঋগ্বেদ ইত্যাদি।
৫. ব-ফলা "ব ও ম" এর সাথে যুক্ত হলে ব-ফলার উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: আব্বা, লম্ব, বিম্ব, তিব্বত, নব্বই, সব্বাই, সাব্বাশ, হাম্বা, নীলাম্বরী, সম্বর্ধনা, নিতম্ব, গম্বুজ, সম্বল, সম্বোধন, ইত্যাদি।
৬. যুক্ত ব্যঞ্জনের সাথে "ব-ফলা" হলো তার উচ্চারণ হয় না। যেমন: উচ্ছ্বাস, আমসত্ত্ব, অন্তর্দ্বার, পার্শ্ববর্তী, সান্ত্বনা, দ্বন্দ্ব, তত্ত্ব প্রক্ষ্বেড়ন ইত্যাদি।

শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


ল-ফলার উচ্চারণ রীতি (১৪ তম ক্লাস)
১. শব্দের প্রথমে ল-ফলা হলে তার উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন : ক্লান্ত, ক্লান্তি, ক্লেশ, প্লাবন, প্লুত, গ্লানি, প্লিহা ইত্যাদি।
২. শব্দের মধ্যে বা শেষে ল-ফলা হলে যে বর্ণের সাথে সে বর্ণকে দ্বিত্ব করে এবং ল-ফলার উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: অশ্লীল>অসস্লীল, এমনি ভাবে আত্মশ্লাঘা, শ্লেষ, শ্লেষ্মা, শ্লীল, শ্লোক, শ্লথ, শ্লোগান ইত্যাদি।

খুব গুরুত্বপূর্ণ ৩৭৬টি বাগধারা

 ...
যে কোন পরীক্ষায় বাংলা অংশে কমন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। প্রয়োজনীয় মূর্হুতে খুঁজে পেতে পোষ্টটি শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখুন..
1) অকাল কুষ্মাণ্ড = (অপদার্থ, অকেজো)
2) অক্কা পাওয়া = (মারা যাওয়া)
3) অগস্ত্য যাত্রা = (চির দিনের জন্য প্রস্থান)
4) অগাধ জলের মাছ = (সুচতুর ব্যক্তি)
5) অর্ধচন্দ্র = (গলা ধাক্কা)
6) অন্ধের যষ্ঠি = (একমাত্র অবলম্বন)
7) অন্ধের নড়ি = (একমাত্র অবলম্বন)
8) অগ্নিশর্মা = (নিরতিশয় ক্রুদ্ধ)
9) অগ্নিপরীক্ষা =(কঠিন পরীক্ষা)
10) অগ্নিশর্মা = (ক্ষিপ্ত)
11) অগাধ জলের মাছ = (খুব চালাক)
12) অতি চালাকের গলায় দড়ি = (বেশি চাতুর্যর পরিণাম)
13) অতি লোভে তাঁতি নষ্ট = (লোভে ক্ষতি)
14) অদৃষ্টের পরিহাস = (বিধির বিড়ম্বনা)
15) অর্ধচন্দ্র দেওয়া = (গলা ধাক্কা দিয়ে দেয়া)
16) অষ্টরম্ভা = (ফাঁকি)
17) অথৈ জলে পড়া = (খুব বিপদে পড়া)
18) অন্ধকারে ঢিল মারা = (আন্দাজে কাজ করা)
19) অমৃতে অরুচি = (দামি জিনিসের প্রতি বিতৃষ্ণা)
20) অন্ধকারে ঢিল মারা = (আন্দাজে কাজ করা)
21) অকূল পাথার = (ভীষণ বিপদ)
22) অনুরোধে ঢেঁকি গেলা = (অনুরোধে দুরূহ
কাজ সম্পন্ন করতে সম্মতি দেয়া)
23) অদৃষ্টের পরিহাস = (ভাগ্যের নিষ্ঠুরতা)
24) অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী = (সামান্য বিদ্যার অহংকার)
25) অনধিকার চর্চা = (সীমার বাইরে পদক্ষেপ)
26) অরণ্যে রোদন = (নিষ্ফল আবেদন)
27) অহিনকুল সম্বন্ধ = (ভীষণ শত্রুতা)
28) অন্ধকার দেখা = (দিশেহারা হয়ে পড়া)
29) অমাবস্যার চাঁদ = (দুর্লভ বস্তু)
30) আকাশ কুসুম = (অসম্ভব কল্পনা)
31) আকাশ পাতাল =(প্রভেদ) (প্রচুর ব্যবধান)
32) আকাশ থেকে পড়া = (অপ্রত্যাশিত)
33) আকাশের চাঁদ = (আকাঙ্ক্ষিত বস্তু)
34) আগুন নিয়ে খেলা = (ভয়ঙ্কর বিপদ)
35) আগুনে ঘি ঢালা = (রাগ বাড়ানো)
36) আঙুল ফুলে কলাগাছ = (অপ্রত্যাশিত ধনলাভ)
37) আঠার আনা = (সমূহ সম্ভাবনা)
38) আদায় কাঁচকলায় = (তিক্ত সম্পর্ক)
39) আহ্লাদে আটখানা = (খুব খুশি)
40) আক্কেল সেলামি = (নির্বুদ্ধিতার দণ্ড)
41) আঙুল ফুলে কলাগাছ = (হঠাৎ বড়লোক)
42) আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়া = (দুর্লভ বস্তু
প্রাপ্তি)
43) আদায় কাঁচকলায় = (শত্রুতা)
44) আদা জল খেয়ে লাগা = (প্রাণপণ চেষ্টা করা)
45) আক্কেল গুড়ুম = (হতবুদ্ধি, স্তম্ভিত)
46) আমড়া কাঠের ঢেঁকি = (অপদার্থ)
47) আকাশ ভেঙে পড়া = (ভীষণ বিপদে পড়া)
48) আমতা আমতা করা = (ইতস্তত করা, দ্বিধা করা)
49) আটকপালে = (হতভাগ্য)
50) আঠার মাসের বছর = (দীর্ঘসূত্রিতা)
51) আলালের ঘরের দুলাল = (অতি আদরে নষ্ট
পুত্র)
52) আকাশে তোলা = (অতিরিক্ত প্রশংসা করা)
53) আষাঢ়ে গল্প = (আজগুবি কেচ্ছা)
54) ইঁদুর কপালে = (নিতান্ত মন্দভাগ্য)
55) ইঁচড়ে পাকা = (অকালপক্ব)
56) ইলশে গুঁড়ি = (গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি)
57) ইতর বিশেষ = (পার্থক্য)
58) উত্তম মধ্যম = (প্রহার)
59) উড়নচন্ডী = (অমিতব্যয়ী)
60) উভয় সংকট = (দুই দিকেই বিপদ)
61) উলু বনে মুক্ত ছড়ানো = (অপাত্রে/
অস্থানে মূল্যবান দ্রব্য প্রদান)
62) উড়ো চিঠি = (বেনামি পত্র)
63) উড়ে এসে জুড়ে বসা = (অনধিকারীর অধিকার)
64) উজানে কৈ = (সহজলভ্য)
65) উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে = (একের
দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপানো)
66) ঊনপাঁজুড়ে = (অপদার্থ)
67) ঊনপঞ্চাশ বায়ু = (পাগলামি)
68) এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো = (একই স্বভাবের)
69) এক চোখা = (পক্ষপাতিত্ব, পক্ষপাতদুষ্ট)
70) এক মাঘে শীত যায় না = (বিপদ এক বারই
আসে না, বার বার আসে)
71) এলোপাতাড়ি = (বিশৃঙ্খলা)
72) এসপার ওসপার = (মীমাংসা)
73) একাদশে বৃহস্পতি = (সৌভাগ্যের বিষয়)
74) এক বনে দুই বাঘ = (প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী)
75) এক ক্ষুরে মাথা মুড়ানো = (একই দলভুক্ত)
76) এলাহি কাণ্ড = (বিরাট আয়োজন)
77) ওজন বুঝে চলা = (অবস্থা বুঝে চলা)
78) ওষুধে ধরা = (প্রার্থিত ফল পাওয়া)
79) কচুকাটা করা = (নির্মমভাবে ধ্বংস করা)
80) কচু পোড়া = (অখাদ্য)
81) কচ্ছপের কামড় = (যা সহজে ছাড়ে না)
82) কলম পেষা = (কেরানিগিরি)
83) কলুর বলদ = (এক টানা খাটুনি)
84) কথার কথা = (গুরুত্বহীন কথা)
85) কাঁঠালের আমসত্ত্ব = (অসম্ভব বস্তু)
86) কাকতাল = (আকস্মিক/দৈব যোগাযোগজাত ঘটনা)
87) কপাল ফেরা = (সৌভাগ্য লাভ)
88) কত ধানে কত চাল = (হিসেব করে চলা)
89) কড়ায় গণ্ডায় = (পুরোপুরি)
90) কান খাড়া করা =(মনোযোগী হওয়া)
91) কানকাটা (নির্লজ্জ)
92) কান ভাঙানো (কুপরামর্শ দান)
93) কান ভারি করা (কুপরামর্শ দান)
94) কাপুড়ে বাবু (বাহ্যিক সাজ)
95) কেউ কেটা (গণ্যমান্য)
96) কেঁচে গণ্ডুষ (পুনরায় আরম্ভ)
97) কেঁচো খুড়তে সাপ (বিপদজনক পরিস্থিতি)
98) কই মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না)
99) কুঁড়ের বাদশা (খুব অলস)
100) কাক ভূষণ্ডী (দীর্ঘজীবী)
101) কেতা দুরস্ত (পরিপাটি)
102) কাছা আলগা (অসাবধান)
103) কাঁচা পয়সা (নগদ উপার্জন)
104) কাঁঠালের আমসত্ত্ব (অসম্ভব বস্তু)
105) কূপমণ্ডুক (সীমাবদ্ধ জ্ঞান সম্পন্ন,
ঘরকুনো)
106) কেতা দুরস্ত (পরিপাটি)
107) কাঠের পুতুল (নির্জীব, অসার)
108) কথায় চিঁড়ে ভেজা (ফাঁকা বুলিতে কার্যসাধন)
109) কান পাতলা (সহজেই বিশ্বাসপ্রবণ)
110) কাছা ঢিলা (অসাবধান)
111) কুল কাঠের আগুন (তীব্র জ্বালা)
112) কেঁচো খুড়তে সাপ (সামান্য থেকে
অসামান্য পরিস্থিতি)
113) কেউ কেটা (সামান্য)
114) কেঁচে গণ্ডুষ (পুনরায় আরম্ভ)
115) কৈ মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে না)
116) খয়ের খাঁ (চাটুকার)
117) খণ্ড প্রলয় (ভীষণ ব্যাপার)
118) খাল কেটে কুমির আনা (বিপদ ডেকে আনা)
119) গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ)
120) গদাই লস্করি চাল (অতি ধীর গতি, আলসেমি)
121) গণেশ উল্টানো (উঠে যাওয়া, ফেল মারা)
122) গলগ্রহ (পরের বোঝা স্বরূপ থাকা)
123) গরজ বড় বালাই (প্রয়োজনে গুরুত্ব)
124) গরমা গরম (টাটকা)
125) গরিবের ঘোড়া রোগ (অবস্থার অতিরিক্ত
অন্যায় ইচ্ছা)
126) গুর খোঁজা (তন্ন তন্ন করে খোঁজা)
127) গুরু মেরে জুতা দান (বড় ক্ষতি করে সামান্য
ক্ষতিপূরণ)
128) গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির
আগেই আয়োজন)
129) গা ঢাকা দেওয়া (আত্মগোপন)
130) গায়ে কাঁটা দেওয়া (রোমাঞ্চিত হওয়া)
131) গাছে তুলে মই কাড়া (সাহায্যের আশা দিয়ে
সাহায্য না করা)
132) গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (কোনো দায়িত্ব
গ্রহণ না করা)
133) গুরু মারা বিদ্যা (যার কাছে শিক্ষা তারই উপর
প্রয়োগ)
134) গোকুলের ষাঁড় (স্বেচ্ছাচারী লোক)
135) গোঁয়ার গোবিন্দ (নির্বোধ অথচ
হঠকারী)
136) গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া, অধঃপাতে যাওয়া)
137) গোবর গণেশ (মূর্খ)
138) গোলক ধাঁধা (দিশেহারা)
139) গোঁফ খেজুরে (নিতান্ত অলস)
140) গোড়ায় গলদ (শুরুতে ভুল)
141) গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা)
142) গৌরীসেনের টাকা (বেহিসাবী অর্থ)
143) গুড়ে বালি (আশায় নৈরাশ্য)
144) ঘর ভাঙানো (সংসার বিনষ্ট করা)
145) ঘাটের মরা (অতি বৃদ্ধ)
146) ঘোড়া রোগ (সাধ্যের অতিরিক্ত সাধ)
147) ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া (মধ্যবর্তীকে
অতিক্রম করে কাজ করা)
148) ঘোড়ার ঘাস কাটা (অকাজে সময় নষ্ট করা)
149) ঘোড়ার ডিম (অবাস্তব)
150) ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো
(নিজ খরচে পরের বেগার খাটা)
151) ঘাটের মড়া (অতি বৃদ্ধ)
152) ঘটিরাম (আনাড়ি হাকিম)
153) চক্ষুদান করা (চুরি করা)
154) চক্ষুলজ্জা (সংকোচ)
155) চর্বিত চর্বণ (পুনরাবৃত্তি)
156) চাঁদের হাট (আনন্দের প্রাচুর্য)
157) চিনির বলদ (ভারবাহী কিন্তু ফল লাভের
অংশীদার নয়)
158) চোখের বালি (চক্ষুশূল)
159) চোখের পর্দা (লজ্জা)
160) চোখ কপালে তোলা (বিস্মিত হওয়া)
161) চোখ টাটানো (ঈর্ষা করা)
162) চোখে ধুলো দেওয়া (প্রতারণা করা)
163) চোখের চামড়া (লজ্জা)
164) চুনকালি দেওয়া (কলঙ্ক)
165) চশমখোর (চক্ষুলজ্জাহীন)
166) চোখের মণি (প্রিয়)
167) চামচিকের লাথি (নগণ্য ব্যক্তির কটূক্তি)
168) চিনির পুতুল (শ্রমকাতর)
169) চুঁনোপুটি (নগণ্য)
170) চুলোয় যাওয়া (ধ্বংস)
171) চিনে/ছিনে জোঁক (নাছোড়বান্দা)
172) ছ কড়া ন কড়া (সস্তা দর)
173) ছা পোষা (অত্যন্ত গরিব)
174) ছাই ফেলতে ভাঙা কুলা (সামান্য কাজের জন্য
অপদার্থ ব্যক্তি)
175) ছেলের হাতের মোয়া (সামান্য বস্তু)
176) ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করা (নগণ্য স্বার্থে
দুর্নাম অর্জন)
177) ছক্কা পাঞ্জা (বড় বড় কথা বলা)
178) ছিঁচ কাদুনে (অল্পই কাঁদে এমন)
179) ছিনিমিনি খেলা (নষ্ট করা)
180) ছেলের হাতের মোয়া (সহজলভ্য বস্তু)
181) জগাখিচুড়ি পাকানো (গোলমাল বাধানো)
182) জিলাপির প্যাঁচ (কুটিলতা)
183) জলে কুমির ডাঙায় বাঘ (উভয় সঙ্কট)
184) ঝড়ো কাক (বিপর্যস্ত)
185) ঝাঁকের কৈ (এক দলভুক্ত)
186) ঝিকে মেরে বউকে বোঝানো
(একজনের মাধ্যমে দিয়ে অন্যজনকে শিক্ষাদান)
187) ঝোপ বুঝে কোপ মারা (সুযোগ মত কাজ
করা)
188) টনক নড়া (চৈতন্যোদয় হওয়া)
189) টাকার কুমির (ধনী ব্যক্তি)
190) টেকে গোঁজা (আত্মসাৎ করা)
191) টুপভুজঙ্গ (নেশায় বিভোর)
192) ঠাঁট বজায় রাখা (অভাব চাপা রাখা)
193) ঠোঁট কাটা (বেহায়া)
194) ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় (আদর্শহীনতার প্রাচুর্য)
195) ঠুঁটো জগন্নাথ (অকর্মণ্য)
196) ঠেলার নাম বাবাজি (চাপে পড়ে কাবু)
197) ডুমুরের ফুল (দুর্লভ বস্তু)
198) ডাকের সুন্দরী (খুবই সুন্দরী)
199) ডুমুরের ফুল (দুর্লভ বস্তু)
200) ডান হাতের ব্যাপার (খাওয়া)
201) ডামাডোল (গণ্ডগোল)
202) ঢাক ঢাক গুড় গুড় (গোপন রাখার চেষ্টা)
203) ঢাকের কাঠি (মোসাহেব, চাটুকার)
204) ঢাকের বাঁয়া (অপ্রয়োজনীয়)
205) ঢেঁকির কচকচি (বিরক্তিকর কথা)
206) ঢি ঢি পড়া (কলঙ্ক প্রচার হওয়া)
207) ঢিমে তেতালা (মন্থর)
208) তালকানা (বেতাল হওয়া)
209) তাসের ঘর (ক্ষণস্থায়ী)
210) তামার বিষ (অর্থের কু প্রভাব)
211) তালপাতার সেপাই (ক্ষীণজীবী)
212) তিলকে তাল করা (বাড়িয়ে বলা)
213) তুলসী বনের বাঘ (ভণ্ড)
214) তুলা ধুনা করা (দুর্দশাগ্রস্ত করা)
215) তুষের আগুন (দীর্ঘস্থায়ী ও দুঃসহ
যন্ত্রণা)
216) তীর্থের কাক (প্রতীক্ষারত)
217) থ বনে যাওয়া (স্তম্ভিত হওয়া)
218) থরহরি কম্প (ভীতির আতিশয্যে কাঁপা)
219) দা-কুমড়া (ভীষণ শত্রুতা)
220) দহরম মহরম (ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক)
221) দু মুখো সাপ (দু জনকে দু রকম কথা বলে
পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টিকারী)
222) দিনকে রাত করা (সত্যকে মিথ্যা করা)
223) দুধে ভাতে থাকা (খেয়ে-পড়ে সুখে থাকা)
224) দেঁতো হাসি (কৃত্তিম হাসি)
225) দাদ নেওয়া (প্রতিশোধ নেয়া)
226) দুকান কাটা (বেহায়া)
227) দুধের মাছি (সু সময়ের বন্ধু)
228) ধরাকে সরা জ্ঞান করা (সকলকে তুচ্ছ ভাবা)
229) ধড়া-চূড়া (সাজপোশাক)
230) ধরাকে সরা জ্ঞান করা (অহঙ্কারে সবকিছু তুচ্ছ
মনে করা)
231) ধর্মের ষাঁড় (যথেচ্ছাচারী)
232) ধর্মের কল বাতাসে নড়ে (সত্য গোপন
থাকে না)
233) ধরি মাছ না ছুঁই পানি (কৌশলে কার্যাদ্ধার)
234) ননীর পুতুল (শ্রমবিমুখ)
235) নয় ছয় (অপচয়)
236) নাটের গুরু (মূল নায়ক)
237) নাড়ি নক্ষত্র (সব তথ্য)
238) নিমক হারাম (অকৃতজ্ঞ)
239) নিমরাজি (প্রায় রাজি)
240) নামকাটা সেপাই (কর্মচ্যূত ব্যক্তি)
241) নথ নাড়া (গর্ব করা)
242) নেই আঁকড়া (একগুঁয়ে)
243) নগদ নারায়ণ (কাঁচা টাকা/নগদ অর্থ)
244) নেপোয় মারে দই (ধূর্ত লোকের ফল
প্রাপ্তি)
245) পটল তোলা (মারা যাওয়া)
246) পগার পার (আয়ত্তের বাইরে পালিয়ে যাওয়া)
247) পটের বিবি (সুসজ্জিত)
248) পত্রপাঠ (অবিলম্বে/সঙ্গে সঙ্গে)
249) পালের গোদা (দলপতি)
250) পাকা ধানে মই (অনিষ্ট করা)
251) পাখিপড়া করা (বার বার শেখানো)
252) পাততাড়ি গুটানো (জিনিসপত্র গোটানো)
253) পাথরে পাঁচ কিল (সৌভাগ্য)
254) পুঁটি মাছের প্রাণ (যা সহজে মরে যায়)
255) পুকুর চুরি (বড় রকমের চুরি)
256) পুরোনো কাসুন্দি ঘাঁটা (পুরোনো
প্রসঙ্গে কটাক্ষ করা)
257) পোঁ ধরা (অন্যকে দেখে একই কাজ করা)
258) পোয়া বারো (অতিরিক্ত সৌভাগ্য)
259) প্রমাদ গোণা (ভীত হওয়া)
260) পায়াভারি (অহঙ্কার)
261) পরের মাথায় কাঁঠাল ভাঙা (অপরকে দিয়ে কাজ
উদ্ধার)
262) পরের ধনে পোদ্দারি (অন্যের অর্থের
যথেচ্ছ ব্যয়)
263) ফপর দালালি (অতিরিক্ত চালবাজি)
264) ফুলবাবু (বিলাসী)
265) ফেউ লাগা (আঠার মতো লেগে থাকা)
266) ফুলের ঘাঁয়ে মূর্ছা যাওয়া (অল্পে কাতর)
267) ফোড়ন দেওয়া (টিপ্পনী কাটা)
268) বক ধার্মিক (ভণ্ড সাধু)
269) বইয়ের পোকা (খুব পড়ুয়া)
270) বগল বাজানো (আনন্দ প্রকাশ করা)
271) বজ্র আঁটুনি ফসকা গেরো (সহজে খুলে
যায় এমন)
272) বসন্তের কোকিল (সুদিনের বন্ধু)
273) বিড়াল তপস্বী (ভণ্ড সাধু)
274) বর্ণচোরা আম (কপট ব্যক্তি)
275) বরাক্ষরে (অলক্ষুণে)
276) বাজারে কাটা (বিক্রি হওয়া)
277) বালির বাঁধ (অস্থায়ী বস্তু)
278) বাঁ হাতের ব্যাপার (ঘুষ গ্রহণ)
279) বাঁধা গৎ (নির্দিষ্ট আচরণ)
280) বাজখাঁই গলা (অত্যন্ত কর্কশ ও উঁচু গলা)
281) বাড়া ভাতে ছাই (অনিষ্ট করা)
282) বায়াত্তরে ধরা (বার্ধক্যের কারণে
কাণ্ডজ্ঞানহীন)
283) বিদ্যার জাহাজ (অতিশয় পণ্ডিত)
284) বিশ বাঁও জলে (সাফল্যের অতীত)
285) বিনা মেঘে বজ্রপাত (আকস্মিক বিপদ)
286) বাঘের দুধ/ চোখ (দুঃসাধ্য বস্তু)
287) বিসমিল্লায় গলদ (শুরুতেই ভুল)
288) বুদ্ধির ঢেঁকি (নিরেট মূর্খ)
289) ব্যাঙের আধুলি (সামান্য সম্পদ)
290) ব্যাঙের সর্দি (অসম্ভব ঘটনা)
291) ভরাডুবি (সর্বনাশ)
292) ভস্মে ঘি ঢালা (নিষ্ফল কাজ)
293) ভাদ্র মাসের তিল (প্রচণ্ড কিল)
294) ভানুমতীর খেল (অবিশ্বাস্য ব্যাপার)
295) ভাল্লুকের জ্বর (ক্ষণস্থায়ী জ্বর)
296) ভাঁড়ে ভবানী (নিঃস্ব অবস্থা)
297) ভূতের ব্যাগার (অযথা শ্রম)
298) ভূঁই ফোড় (হঠাৎ গজিয়ে ওঠা)
299) ভিজে বিড়াল (কপটাচারী)
300) ভূশন্ডির কাক (দীর্ঘজীবী)
301) মগের মুল্লুক (অরাজক দেশ)
302) মণিকাঞ্চন যোগ (উপযুক্ত মিলন)
303) মন না মতি (অস্থির মানব মন)
304) মড়াকান্না (উচ্চকণ্ঠে শোক প্রকাশ)
305) মাছের মায়ের পুত্রশোক (কপট
বেদনাবোধ)
306) মিছরির ছুরি (মুখে মধু অন্তরে বিষ)
307) মুখ চুন হওয়া (লজ্জায় ম্লান হওয়া)
308) মুখে দুধের গন্ধ (অতি কম বয়স)
309) মুস্কিল আসান (নিষ্কৃতি)
310) মেনি মুখো (লাজুক)
311) মাকাল ফল (অন্তঃসারশূণ্য)
312) মশা মারতে কামান দাগা (সামান্য কাজে বিরাট
আয়োজন)
313) মুখে ফুল চন্দন পড়া (শুভ সংবাদের জন্য
ধন্যবাদ)
314) মেছো হাটা (তুচ্ছ বিষয়ে মুখরিত)
315) যক্ষের ধন (কৃপণের ধন)
316) যমের অরুচি (যে সহজে মরে না)
317) রত্নপ্রসবিনী (সুযোগ্য সন্তানের মা)
318) রাঘব বোয়াল (সর্বগ্রাসী ক্ষমতাবান ব্যক্তি)
319) রাবণের চিতা (চির অশান্তি)
320) রাশভারি (গম্ভীর প্রকৃতির)
321) রাই কুড়িয়ে বেল (ক্ষুদ্র সঞ্চয়ে বৃহৎ)
322) রাজা উজির মারা (আড়ম্বরপূর্ণ গালগল্প)
323) রাবণের গুষ্টি (বড় পরিবার)
324) রায় বাঘিনী (উগ্র স্বভাবের নারী)
325) রাজ যোটক (উপযুক্ত মিলন)
326) রাহুর দশা (দুঃসময়)
327) রুই-কাতলা (পদস্থ বা নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি)
328) লেফাফা দুরস্ত (বাইরের ঠাট বজার রেখে
চলেন যিনি)
329) লগন চাঁদ (ভাগ্যবান)
330) ললাটের লিখন (অমোঘ ভাগ্য)
331) লাল পানি (মদ)
332) লাল বাতি জ্বালা (দেউলিয়া হওয়া)
333) লাল হয়ে যাওয়া (ধনশালী হওয়া)
334) লেজে গোবরে (বিশৃঙ্খলা)
335) শকুনি মামা (কুটিল ব্যক্তি)
336) শাঁখের করাত (দুই দিকেই বিপদ)
337) শাপে বর (অনিষ্টে ইষ্ট লাভ)
338) শিকায় ওঠা (স্থগিত)
339) শিঙে ফোঁকা (মরা)
340) শিবরাত্রির সলতে (একমাত্র সন্তান)
341) শিরে সংক্রান্তি (বিপদ মাথার ওপর)
342) শুয়ে শুয়ে লেজ নাড়া (আলস্যে সময় নষ্ট
করা)
343) শরতের শিশির (সুসময়ের বন্ধু)
344) শত্রুর মুখে ছাই (কুদৃষ্টি এড়ানো)
345) শ্রীঘর (কারাগার)
346) ষাঁড়ের গোবর (অযোগ্য)
347) ষোল আনা (পুরোপুরি)
348) ঘোল কলা (পুরোপুরি)
349) সবুরে মেওয়া ফলে (ধৈর্যসুফল মিলে)
350) সরফরাজি করা (অযোগ্য ব্যক্তির চালাকি)
351) সাত খুন মাফ (অত্যধিক প্রশ্রয়)
352) সাত সতের (নানা রকমের)
353) সাপের ছুঁচো গেলা (অনিচ্ছায় বাধ্য হয়ে কাজ
করা)
354) সেয়ানে সেয়ানে (চালাকে চালাকে)
355) সবে ধন নীলমণি (একমাত্র অবলম্বন)
356) সাতেও নয়, পাঁচেও নয় (নির্লিপ্ত)
357) সাপের পাঁচ পা দেখা (অহঙ্কারী হওয়া)
358) সোনায় সোহাগা (উপযুক্ত মিলন)
359) সাক্ষী গোপাল (নিষ্ক্রিয় দর্শক)
360) সখাত সলিলে (ঘোর বিপদে পড়া)
361) সব শেয়ালের এক রা (ঐকমত্য)
362) হাটে হাঁড়ি ভাঙা (গোপন কথা প্রকাশ করা)
363) হাতটান (চুরির অভ্যাস)
364) হ য ব র ল (বিশৃঙ্খলা)
365) হরি ঘোষের গোয়াল (বহু অপদার্থ ব্যক্তির
সমাবেশ)
366) হরিলুট (অপচয়)
367) হস্তীমূর্খ (বুদ্ধিতে স্থূল)
368) হাড়ে দুর্বা গজানো (অত্যন্ত অলস হওয়া)
369) হাতুড়ে বদ্যি (আনাড়ি চিকিৎসক)
370) হাতের পাঁচ (শেষ সম্বল)
371) হীরার ধার (অতি তীক্ষ্ণবুদ্ধি)
372) হোমরা চোমরা (গণ্যমান্য ব্যক্তি)
373) হিতে বিপরীত (উল্টো ফল)
374) হাড় হদ্দ (নাড়ি নক্ষত্র/সব তথ্য)
375) হাড় হাভাতে (হতভাগ্য)
376) হালে পানি পাওয়া (সুবিধা করা)