Tuesday, January 24, 2017

বাংলা ভাষার ইতিহাস


#বাংলা_ভাষার_ইতিবৃত্ত :-
বাংলা ভাষা পৃথিবীর জীবন্ত ও বয়স্ক ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। সময়ের তালে তালে এ ভাষার রূপে ও উচ্চারণে আসে ভিন্নতা। ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে 'গৌড়ী প্রাকৃত' থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন ৯০০ বা ৯৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ''মাগধী অপভ্রংশ" থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার (এই মতই আজকাল গৃহীত)।
"৯৫০-১২০০ সাল" - এই আড়াই শো বছরে বাংলা ভাষা যে-রূপ নিয়েছিল, তাকে বলা হয় আদি বাংলা ভাষা। আর "চর্যাপদ" নামে একগুচ্ছ গান পাওয়া যায়, যা আদিযুগের বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছিল। নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থশালা থেকে ১৯০৭ সালে ৪টি চর্যাপদের পুথি আবিস্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এবং "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা" নামে ১৯১৬ সালে "বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ" থেকে প্রকাশ করেন।চর্যাপদের কবি ৮ জনের নাম পাওয়া যায় কাহ্নপা, লুইপা, কুক্কুরীপা,বিরুআপা, গুডরীপা, ভুসুকুপা, সরহপা, শবরপা প্রভৃতি। সবচেয়ে বেশি গান কাহ্নপা(১৩),ভুসুকুপ ৮টি গান।
১২০০-১৮০০ খ্রি: পর্যন্ত- এই সময়ের কথিত ও লিখত যে রূপ পাওয়া যায় তা হলো বাংলা ভাষার মধ্য যুগ।
১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দের বাংলা ভাষাকে বলা হয় আঁধার যুগের বা ক্রান্তিকালের বাংলা ভাষা। ১৮০০ থেকে শুরু হয় আধুনিক বাংলা ভাষা।
*১ম অভিধান + আংশিক ব্যাকরণ "ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেঙ্গল্লা, ই পর্তুগিজ " (১৭৪৩ সাল)-পাদ্রি আসসুম্পসাঁউর।
*১ম ব্যাকরণ "এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ" (১৭৭৮ সাল) -ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
সাধু ও চলিত: সাধু ভাষাকে বিদায় জানাতে সর্বপ্রথম ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী চলিত রীতিকে প্রতিষ্ঠার জন্য আলোড়ন আনে বাংলা ভাষারাজ্যে এবং তাঁর সাথে যোগদান করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এগিয়ে আসেন অন্যরা। ধীরে ধীরে বিদায় নিতে থাকে সাধু রীতি।
#প্রমিত উচ্চারণের ইতিবৃত্ত :-
সাধারণত মনে করা হয় যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সময় প্রবৃত্ত হন প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম কানুন সংকলনে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে কোন কোন অভিধানে বিদেশীদের কথা মনে রেখে উচ্চারণ নির্দেশ করা হয় তবে তা রবীন্দ্রনাথের পরে।ঢাকা থেকে ১৯৬৮ সালে একটি সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ অভিধানের চেষ্টা করা হয়।
১৯৬৮ সাল থেকে নরেন বিশ্বাস বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে "বাংলা উচ্চারণ" সম্পর্কে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলা উচ্চারণ অভিধানের তীব্র অভাব অনুভব করেন। তাঁর এই তীব্র অনুভূতি থেকেই রচিত হয়েছে "পূর্ণাঙ্গ বাংলা উচ্চারণ অভিধান" যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমী থেকে।
বি: দ্র: সংস্কৃতির যে কোন শাখা বা মাধ্যমে সফল ভাবে কাজ করতে চাইলে একজন শিল্পীকে প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম নীতি জেনে বাচিক শিল্পে পারদর্শী হতে হবে।

শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(১ম ক্লাস)
#বাংলা_ভাষার_ইতিবৃত্ত :-
বাংলা ভাষা পৃথিবীর জীবন্ত ও বয়স্ক ভাষাগুলোর মধ্যে একটি। সময়ের তালে তালে এ ভাষার রূপে ও উচ্চারণে আসে ভিন্নতা। ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ মনে করেন ৬৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে 'গৌড়ী প্রাকৃত' থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় মনে করেন ৯০০ বা ৯৫০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে ''মাগধী অপভ্রংশ" থেকে জন্ম হয় বাংলা ভাষার (এই মতই আজকাল গৃহীত)।
"৯৫০-১২০০ সাল" - এই আড়াই শো বছরে বাংলা ভাষা যে-রূপ নিয়েছিল, তাকে বলা হয় আদি বাংলা ভাষা। আর "চর্যাপদ" নামে একগুচ্ছ গান পাওয়া যায়, যা আদিযুগের বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছিল। নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থশালা থেকে ১৯০৭ সালে ৪টি চর্যাপদের পুথি আবিস্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এবং "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা" নামে ১৯১৬ সালে "বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ" থেকে প্রকাশ করেন।চর্যাপদের কবি ৮ জনের নাম পাওয়া যায় কাহ্নপা, লুইপা, কুক্কুরীপা,বিরুআপা, গুডরীপা, ভুসুকুপা, সরহপা, শবরপা প্রভৃতি। সবচেয়ে বেশি গান কাহ্নপা(১৩),ভুসুকুপ ৮টি গান।
১২০০-১৮০০ খ্রি: পর্যন্ত- এই সময়ের কথিত ও লিখত যে রূপ পাওয়া যায় তা হলো বাংলা ভাষার মধ্য যুগ।
১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দের বাংলা ভাষাকে বলা হয় আঁধার যুগের বা ক্রান্তিকালের বাংলা ভাষা। ১৮০০ থেকে শুরু হয় আধুনিক বাংলা ভাষা।
*১ম অভিধান + আংশিক ব্যাকরণ "ভোকাবুলারিও এম ইদিওমা বেঙ্গল্লা, ই পর্তুগিজ " (১৭৪৩ সাল)-পাদ্রি আসসুম্পসাঁউর।
*১ম ব্যাকরণ "এ গ্রামার অফ দি বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ" (১৭৭৮ সাল) -ন্যাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড।
সাধু ও চলিত: সাধু ভাষাকে বিদায় জানাতে সর্বপ্রথম ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরী চলিত রীতিকে প্রতিষ্ঠার জন্য আলোড়ন আনে বাংলা ভাষারাজ্যে এবং তাঁর সাথে যোগদান করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এগিয়ে আসেন অন্যরা। ধীরে ধীরে বিদায় নিতে থাকে সাধু রীতি।
#প্রমিত উচ্চারণের ইতিবৃত্ত :-
সাধারণত মনে করা হয় যে,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক সময় প্রবৃত্ত হন প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম কানুন সংকলনে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে কোন কোন অভিধানে বিদেশীদের কথা মনে রেখে উচ্চারণ নির্দেশ করা হয় তবে তা রবীন্দ্রনাথের পরে।ঢাকা থেকে ১৯৬৮ সালে একটি সংক্ষিপ্ত উচ্চারণ অভিধানের চেষ্টা করা হয়।
১৯৬৮ সাল থেকে নরেন বিশ্বাস বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে "বাংলা উচ্চারণ" সম্পর্কে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাংলা উচ্চারণ অভিধানের তীব্র অভাব অনুভব করেন। তাঁর এই তীব্র অনুভূতি থেকেই রচিত হয়েছে "পূর্ণাঙ্গ বাংলা উচ্চারণ অভিধান" যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা একাডেমী থেকে।
বি: দ্র: সংস্কৃতির যে কোন শাখা বা মাধ্যমে সফল ভাবে কাজ করতে চাইলে একজন শিল্পীকে প্রমিত উচ্চারণের নিয়ম নীতি জেনে বাচিক শিল্পে পারদর্শী হতে হবে।
বাংলা ভাষায় স্বরবর্ণ ১১ টি, কিন্তু পাঠ প্রতিকল্পন অনুসারে স্বরবর্ণ হলো ৭ টি :- অ, আ. ই, উ, এ, ও, এ্যা
পাঠ প্রতিকল্পন :- কোন নির্দিষ্ট ভাষার শব্দের মাঝে স্বরধ্বনি পরিবর্তন করে যে সঠিক স্বরধ্বনি নির্ধারন করা হয় তাকে পাঠ প্রতিকল্পন বল।
যেমন:- আমি, ইমা।
স্বরবর্ণ উচ্চারণে জিহ্বা, ঠোঁট ও মুখ বিহ্বরের কাজ:-
 জিহ্বার অবস্থান অনুসারে...
ই, এ, এ্যা = সম্মুখ ধ্বনি
আ, অ, ও, উ = পশ্চাৎ ধ্বনি
 সংকোচন ও প্রসারণ অনুসারে...
ই, এ, এ্যা = প্রসারিত কম বেশি
আ, অ, ও, উ = সংকচিত
 মুখ বিহ্বরের ভূমিকা বা কাজ,
ই, উ = মুখ বোজা
আ = সম্পুর্ণ খোলা
এ, ও = অর্ধেক বন্ধ
এ্যা, অ = অর্ধেক খোলা।

শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(২য় ক্লাস)
#ব্যঞ্জনবর্ণ :-
ক খ গ ঘ ঙ
চ ছ জ ঝ ঞ
ট ঠ ড ঢ ণ
ত থ দ ধ ন
প ফ ব ভ ম
য র ল শ ষ
স হ ড় ঢ় য়
ৎ ং ঃ ঁ
ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথম ২৫ টি বর্ণ অর্থাৎ ক থেকে ম পর্যন্ত বর্ণগুলোকে পাঁচটি দলে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি
দলের নামকরণ করা হয়েছে তাদের দলপতির নাম অনুযায়ী। যেমন ক খ গ ঘ ঙ এই পাঁচটি বর্ণ নিয়ে যে দলটি তৈরি হয়েছে তাকে বলা হয় ক-বর্গ, এমনি ভাবে চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ, প-বর্গ।
অল্পপ্রাণ : ক,চ,ট,ত,প.
গ,জ,ড,দ,ব.
মহাপ্রাণ : খ,ছ,ঠ,থ,ফ.
ঘ,ঝ,ঢ,ধ,ভ.
নাসিক্য : ঙ,ঞ,ণ,ন,ম.
শীষ ধ্বনি : শ,ষ,স.
চলবে..

"জড়তা কাটাতে সহায়ক কতিপয় সূত্র" - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৩য় ক্লাস)
"জড়তা কাটাতে সহায়ক কতিপয় সূত্র"
১. পাশাপাশি এবং উপর নিচ পড়ুন -
ক চ ট ত প
খ ছ ঠ থ ফ
গ জ ড দ ব
ঘ ঝ ঢ ধ ভ
২. অ আ ই উ এ ও এ্যা
এ্যা ও এ উ ই আ অ
৩. খ আর ঘ জোর দিয়ে বলুন-
খক্ খক্ খ্যাক্ খ্যাক্, ঘন্ ঘন্ ঘ্যান্ ঘ্যান্,
খুক্ খুক্ খল্ খল্ , ঘুট্ ঘুট্ ঘ্যাট্ ঘ্যাট্।
চ, ছ, জ, ঝ জোর দিয়ে বলুন-
চি চি ছ্যা ছ্যা, ঝি ঝি ঝ্যা ঝ্যা,
গজা গজ্ গজা গজ্, খচা খচ্ খচা খচ্,
ঝর্ ঝর্ জম্ জম্, চুক্ চুক জ্যাব্ জ্যাব্।
ট আর ঠ জোর দিয়ে বলুন-
টা টা ঠা ঠা, টি টি ঠি ঠি,
টিপি টাপ্ টিপি টাপ্, ঠিক্ ঠিক্ ঠক্ ঠক্,
টে টে টো টো, ঠিক্ ঠিক্ ঠস্ ঠস্।
ড আর ঢ জোর দিয়ে বলুন-
ডম্ ডম্ ডিম্ ডিম্, ঢক্ ঢক্ ঢাম্ ঢাম্
ডুম্ ডুম্ ডুম্ ডুম্, ঢক্ ঢক্ ঢম্ ঢম্
থ আর ধ জোর দিয়ে বলুন-
থক্ থক্ থক্ থক্, ধুম্ ধুম্ ধম্ ধম্
থির্ থির্ থর্ থর্, ধমা ধুম্ ধমা ধাম্
স্পষ্ট করে ফ আর ভ বলুন-
ফিক্ ফিক্ ফক্ ফক্, ভম্ ভম্ ভট্ ভট্
ফুট্ ফাট্ ফিট্ ফাট্, ভুট্ ভুট্ ভক্ ভক্
৪. পাখী পাঁকা পেঁপে খায়
৫. কাঁচা গাব পাঁকা গাব
৬. তক্ তক্, থক্ থক্, তালপাতা চক্ চক্
৭. তৈতৈ থৈথৈ, থালা ভরা আছে কৈ
৮. জলে চুন তাজা, তেলে চুল তাজা।
৯. চাচা চাঁছা চটা চাঁছে না আচাঁছা চটা চাঁছে।
১০. গড়ের মাঠে গরুর গাড়ি গড়গড়িয়ে যায়।
১১. চক বাজারের চানু চাকলাদার চিড়া চিবাইতে চিবাইতে চাঁনখারপুল পার হইয়া চাঁদপুরের লঞ্চে চড়িল।
১২. ছদরুদ্দিনের ছাগল ছানা ছোলা খাইতে গিয়া ছদরুদ্দিনের ছাতা ভাঙিয়া ছয়লাব করিয়া ছলছল নয়নে চাহিয়া রহিল।
১৩. কমলাকান্তের কনিষ্ঠ কন্যা কামিনী কলেজের করিডোরে কাঁদিতে কাঁদিতে কপাল কুঞ্চিত করিয়া কাকাকে কহিল, 'কাকা,কাক কা-কা করে কেন'? কাকা কহিলেন, 'কন্যা), কপাল কুঞ্চিত করিও না' কা-কা করাই কাকের কাজ।
১৪. সুশিক্ষিত সুসজ্জিত সুশৃঙ্খল সৈন্যসহ সেনাপতি সেলুকস্ বিশৃঙ্খল শত্রু সৈন্যদের সম্পূর্ণরুপে পরাস্ত করে সসম্মান স্বসাম্রাজ্যে সশরীরে ফিরে এলেন।
১৫. ফেলু মিয়া ফাঁপা ফাটা বাঁশ দিয়া ফুলের ফ্ল্যাগ উড়াইয়া ফটো তুলিল।
চলবে...

আদ্য "অ" এর উচ্চারণ রীতি:- - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৪র্থ ক্লাস)
আদ্য "অ" এর উচ্চারণ রীতি:-
১. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন বা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "ই/ঈ-কার" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" করতে হয়। যেমন: অভিধান> ওভিধান, অতি> ওতি, পতি> পোতি,এমনি ভাবে মতি,গতি, নদী, সতী, গভীর ইত্যাদি।
২. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন কিংবা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "উ/ঊ-কার" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" করতে হয়। যেমন: অনুমান> ওনুমান, অনুকূল> ওনুকূল, এমনি ভাবে গরু, মরু, তরু, বধূ, ময়ূর ইত্যাদি।
৩. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন বা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "য-ফলা" যুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়ে থাকে। যেমন: অদ্য বেলা> ওদ্য বেলা, অতান্ত> ওতান্ত, এমনি ভাবে অত্যাচার, কন্যা, বন্যা, কথ্য, তথ্য, সন্ধ্যা, গদ্য, পদ্য সদ্য, ধন্যবাদ ইত্যাদি।
৪. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন বা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "ক্ষ/জ+ঞ=জ্ঞ" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়ে থাকে। যেমন: কক্ষ> কোক্ষ, বক্ষ> বোক্ষ এমনি ভাবে দক্ষ পক্ষ, লক্ষ, যজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, বিজ্ঞ, বিজ্ঞান ইত্যাদি।
বি: দ্র: নামের ক্ষেত্রে লোক্ষণ হবেনা তখন লক্ষণ বলতে হবে। আবার পাখির পালকের ক্ষেত্রে পোক্ষ হবে না বরং পক্ষ বলতে হবে।
৫. শব্দের আদিতে যদি 'অ' হয় (স্বাধীন কিংবা ব্যঞ্জনী যুক্ত) এবং তারপরে যদি "ঋ-কার" হয় তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ "ও-কার" এর মতো হয়। যেমন: মসৃণ> মোসৃণ, যকৃত,
৬. শব্দের আদিতে যদি ''অ যুক্ত র- ফলা" থাকে তাহলে সেই 'অ' এর উচ্চারণ সাধারণত "ও-কারান্ত" করতে হয়। যেমন: গ্রহ> গ্রোহ, এমনি ভাবে গ্রন্থ, প্রতাপ, প্রকাশ, প্রথম, প্রকৃতি, প্রত্যয় ইত্যাদি।
বি: দ্র: "অ যুক্ত র- ফলা" এরপরে "য়" হলে তার উচ্চারণ অবিকৃত হয়ে থাকে। যেমন: ক্রয়।

(আদ্য "অ" এর বাকি আংশ) শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!


(৫ম ক্লাস)
(আদ্য "অ" এর বাকি আংশ)
৭. সাধু ভাষায় ব্যবহৃত ক্রিয়াপদের বানানে ''ই-কার'' আছে কিন্তু চলিত ভাষায় তা হ্রাস পায় এবং সেই "ই-কার" প্রায়শয় "ও-কার" এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমন: করিবার(সাধু)> করবার(চলিত)> কোরবার(উচ্চারণ) এমনি ভাবে ধরবার, নড়বার, পড়বার ইত্যাদি।
বি:দ্র: হইবো> হবো, সইবো> সবো।
"অ" এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে:-
৮. "অ" যখন নেতিবাচক (না) বাচক অর্থে আসে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "অ" হবে। যেমন: অস্থির, অবিরাম, অবিকল, অনড়, অন্যায়, অবিচার, অসময়, অমূল্য, অপ্রাপ্ত ইত্যাদি।
৯. শব্দের প্রথমে যদি "স" থাকে আর তা যদি "সম" অর্থে আসে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "অ" হবে। যেমন: সম্পৃক্ত, সম্প্রীত, সম্পদ, সহোদর, সমান, সমাজ, সঞ্জয়, সমুদয়, সজ্ঞান, সম্পাদক ইত্যাদি।
১০. অ এর অ হলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "অ" হবে। যেমন: সকল, সফল, সদল, বলা ইত্যাদি।
১১. একাক্ষরে যখন উচ্চারিত হয় তখন "অ" টা "অ" এর মতোই উচ্চারিত হয়। যেমন: ফল, দল, বল, নল ইত্যাদি।

মধ্য "অ"এর উচ্চারণ রীতি - শুদ্ধ বাংলা (প্রমিত) উচ্চারণ মাত্র ১৫ ক্লাসে!

x
(৬ষ্ঠ ক্লাস)
মধ্য "অ"এর উচ্চারণ রীতি
১. শব্দের মধ্যে যদি "অ" থাকে তারপর যদি "ই,ঈ,উ,ঊ,ঋ,ক্ষ,জ্+ঞ,এবং য-ফলা" যুক্ত ব্যঞ্জণবর্ণ থাকে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত" হয়।
যেমন: প্রণতি>প্রণোতি, এমনি ভাবে বিরতি, অগনিত, সমভূমি,তৃণভূমি, অমসৃণ, অকথ্য,ধরণী, সুমতি, অবগতি, যবক্ষার, অদম্য, অসভ্য ইত্যাদি।
২. শব্দের মধ্যে যদি "অ" থাকে, তারপর "অ,আ,এ,ও-কার" থাকে তাহলে সেই "অ" এর উচ্চারণ "ও-কারান্ত হবে। যেমন: বলদ>বলোদ, মতন>মতোন এমনি ভাবে বেতন, ছাগল, পাগল, কাগজ, ডাগর, লোচন, পোষণ, ছোবল, সবল, ইত্যাদি।
কবি নজরুল ইসলামের
১. রাজবন্দীর জবানবন্দী
চলবে......